Buty Obuwie

Who is Kansas State QB Jacob Knuth? 5 things to know about Avery Johnson's backup

· Yahoo Sports

Fifth-year quarterback Jacob Knuth may potentially make his first career start for Kansas State after the Wildcats labeled starter Avery Johnson as doubtful in Friday's availability report ahead of its Big 12 matchup at Arizona State.

The Wildcats play the Sun Devils on Saturday, Oct. 24, at 2:45 p.m. CT in Tempe, Arizona.

Visit freshyourfeel.com for more information.

Since becoming Kansas State's starter in 2024, Johnson has never missed a game. His injury came as a surprise in Wednesday's initial availability report after he missed one play early in the first quarter of the Wildcats' win over Kansas last week after stumbling to the turf at the end of a long run. He returned the following drive and played the remainder of the game without any signs of injury.

That pushes Knuth into action as a 6-foot-4, 225-pound fifth-year quarterback. Here's what you should know about the Wildcats' backup.

Jacob Knuth has been a backup at Kansas State for three years

Knuth has been on Kansas State's roster since 2023. He didn't play in 2023 but appeared twice in 2024 and twice in 2025.

In 2024, he played 14 total snaps: six against FCS UT Martin in the team's opener and eight in a 38-9 loss at BYU. He threw and completed one pass in each for 18 yards. He had three combined rushing attempts in the two games for 18 yards.

In 2025, Knuth played eight snaps between a win over Kansas and the following week's loss against Texas Tech. He didn't throw a pass in either. He ran the ball three times against Kansas for 44 yards, including a 40-yard run late in a blowout win.

This season, Knuth has played 16 snaps across his three appearances. He played after Blake Barnett appeared in the Wildcats' Week 1 win over Nicholls, completing one pass for seven yards. He also ran the ball four times for 25 yards and a touchdown. Knuth didn't throw or run the ball in his appearances against either Washington State or Kansas.

Jacob Knuth practiced as a kick returner in the preseason

During spring practice ahead of the 2026 season, Knuth was spotted fielding kicks and punts with the returners. Though he hasn't had a special teams role in any games, it was one of the preseason's notable sights.

"It's a bit unique to have a quarterback playing on special teams, but he's a guy late in his career, and he cares a lot about this place and wants to find any way to help the team, which I admire a lot," special teams coordinator Stanton Weber said at the time. "When you get through our winter workouts and talk about his numbers in terms of top speed, acceleration and size, he could potentially help us, so why not turn over every rock when you look at players with those body types.

"He's been going through the whole gamut and competing with the rest of them, and he has improved tremendously this spring. With the roster reduction, you're trying to find value anywhere, and I admire Jacob to propose being utilized in that special teams role. It's been a lot of fun watching him."

Jacob Knuth started his career at Minnesota

Out of high school, Knuth was regarded as the top player out of South Dakota, and he chose to start his college career at Minnesota. He didn't appear in any games before entering the transfer portal.

How to pronounce Jacob Knuth's last name

Kansas State's media guide says it is pronounced: "kah-NOOTH."

Kansas State has dealt with backup quarterback injuries all season

Every Kansas State quarterback has appeared on the availability report once. Most have appeared on it more than once, and Knuth is no different.

Knuth's name appeared on the Wildcats' injury report ahead of their Sept. 26 game at Cincinnati, and he ultimately dressed but wasn't needed. He hasn't appeared on an injury report since.

Barnett was expected to be the team's backup heading into the year, but he's been on crutches since he played in the Wildcats' Week 1 win over Nicholls. He was listed as questionable in the initial report to start the week, the first time he wasn't immediately ruled "out" since Big 12 play began.

Sophomore quarterback Dillon Duff was also someone Klein praised ahead of the season, but a preseason injury kept him off the field as the Wildcats faced easier non-conference opponents. Duff has dressed for games throughout Big 12 play, but his health remains unclear.

Wyatt D. Wheeler covers Kansas State athletics for the USA TODAY Network and Topeka Capital-Journal. You can follow him on X at @WyattWheeler_, contact him at 417-371-6987 or email him at [email protected]

This article originally appeared on Topeka Capital-Journal: Who is Kansas State QB Jacob Knuth? 5 things to know about Avery Johnson's backup

Czytaj dalej u źródła

১০টি হাঁসের ডিম দিয়ে শুরু, এখন ১৬ একর খামারের মালিক বিবি রহিমা

· Prothom Alo

প্রতিবেশীর কাছ থেকে ১০টি হাঁসের ডিম সংগ্রহ করে বাচ্চা ফোটানোর জন্য নিজের ঘরে থাকা দেশি মুরগির নিচে রেখেছিলেন বিবি রহিমা। সব ডিম থেকেই বাচ্চা ফুটেছিল। এরপর এসব হাঁসের বাচ্চা পালতে শুরু করেন রহিমা। সেখান থেকেই শুরু। এখন বিবি রহিমার রয়েছে প্রায় ১৬ একরের সমন্বিত কৃষি খামার।

Visit afsport.lat for more information.

বিবি রহিমা নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে তাঁর সমন্বিত কৃষি খামার। এতে রয়েছে মাছের ঘের, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও শাকসবজি। খামারের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন তাঁর স্বামী এবং সন্তানেরা। এ ছাড়া নিয়মিত খামারে কাজ করেন চার-পাঁচজন শ্রমিক।

জেলা শহর মাইজদী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বিবি রহিমার খামার। গ্রামীণ সড়ক দিয়ে কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গনির দোকান পার হয়ে অল্প কিছুদূর সামনে গেলেই খালপাড় এলাকায় চোখে পড়ে তাঁর সমন্বিত কৃষি খামারটি। পাশে রহিমার মেয়ের নামে তৈরি করা হয়েছে নতুন একটি বসতঘর।

বিবি রহিমা, খামারিএকটি ছাগী কিনেছিলাম। পরে সেটি বাচ্চা দেয়। ঘরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি ছাগল বিক্রি করে একটি গরুর বাছুর কিনেছিলাম। সেটিও বড় হয়ে বাচ্চা দেয়। এভাবেই আমার পশুর খামারে গরু-ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাঁস-মুরগিও একইভাবে বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘরের পাশে মাছের ঘের। সেখানে দলবেঁধে চষে বেড়াচ্ছে হাঁসের দল। ঘেরের পাশে লাগানো হয়েছে পেঁপে, বরইসহ নানা দেশীয় ফলের গাছ। সারি সারি পেঁপেগাছে কাঁচা ও পাকা পেঁপে ঝুলছে। এর পাশেই চোখে পড়ে লাউ, কুমড়াসহ নানা সবজির খেত। অন্যদিকে রয়েছে গরু-ছাগলের খামার।

যেভাবে শুরু

খামারে কথা হয় বিবি রহিমার সঙ্গে। জানান, বিয়ের পর খুবই অভাব-অনটনে দিন কাটছিল তাঁর। তাঁর স্বামী তখন কৃষিকাজ করতেন। অভাবের সংসারের স্বামীর পাশাপাশি কিছু একটা করার কথা ভাবতেন রহিমা। ঘরে একটি দেশি মুরগি ছিল তাঁর। ভাবলেন, কয়েকটা হাঁস থাকলে ভালো হতো।

রহিমা বলেন, ‘এটি প্রায় ২৩ বছর আগের কথা। তখন আমার বড় ছেলে গর্ভে। প্রতিবেশীর কাছ থেকে ১০টা হাঁসের ডিম সংগ্রহ করে আমার দেশি মুরগিটার নিচে দিলাম। ১০টি ডিম থেকেই বাচ্চা ফুটল। এর মধ্যে ৮টিই মাদি হাঁস। হাঁসগুলো বড় হয়ে ডিম দিতে শুরু করল।’

রহিমার মাছের ঘের। সম্প্রতি তোলা

এরপর ডিম বিক্রি করে টাকা জমিয়ে একটি ছাগল কেনেন বলে জানান রহিমা। তিনি বলেন, ‘একটি ছাগী কিনেছিলাম। পরে সেটি বাচ্চা দেয়। ঘরে ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর মধ্যে কয়েকটি ছাগল বিক্রি করে একটি গরুর বাছুর কিনেছিলাম। সেটিও বড় হয়ে বাচ্চা দেয়। এভাবেই আমার পশুর খামারে গরু-ছাগলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাঁস-মুরগিও একই ভাবে বেড়েছে।’

রহিমা বলেন, ‘একসময় দেখি খামারে কেবল গাভিই আছে ২১টি। তখনো গরু রাখার ঘর ছিল কাঁচা। পরে কয়েকটি গরু বিক্রি করে পাকা ঘর নির্মাণ করেছি।’

খামারে যা রয়েছে

রহিমা জানান, এখন তাঁর খামারে গরু রয়েছে ৮টি। ছাগল আছে ১৩-১৪টির মতো। হাঁস রয়েছে ৫০০টির বেশি। দেশি মুরগি রয়েছে ৩৫০টি। এর বাইরে শাকসবজির খেত, ফলদ গাছের বাগান রয়েছে। তাঁর মাছের ঘেরে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছের চাষ করা হয়েছে।

রহিমা বলেন, ‘খামারের সবকিছুতেই যতটা সম্ভব নিজের উৎপাদনের ওপর নির্ভর করি। বাজার থেকে সবজির চারা বা হাঁস-মুরগির বাচ্চা কিনি না। নিজের খামারেই মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা ফুটাই। নিজেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করি।’ বিবি রহিমা বলেন, বাজার থেকে চারা কিংবা বাচ্চা কিনে আনলে অনেক সময় সমস্যা হয়। সে কারণে নিজের খামারেই চারা ও বাচ্চা উৎপাদন করেন তিনি।

খামারে থাকা কয়েকটি ছাগল

পরিবারের সচ্ছলতা

খামারের আয়ে নিজের পরিবারের সচ্ছলতা এসেছে বলে জানালেন রহিমা। তিনি বলেন, খামারের আয় দিয়ে নিজের দুই ছেলে ও চার মেয়ের পড়াশোনা এবং পরিবারের খরচ চালিয়েছেন। চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে এক মেয়ে স্নাতকে পড়েন, আরেকজন মাদ্রাসায় মাধ্যমিকে পড়ে।

দুই ছেলের মধ্যে একজন বর্তমানে সৌদি আরবে চাকরি করেন। স্বামীকেও খামারের আয়ে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। তবে খামারের কাজে সহায়তার জন্য কয়েক বছর পর দেশে নিয়ে আসেন। এক ছেলে এসএসসি পাসের পর খামারে সহায়তা করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘরের পাশে মাছের ঘের। সেখানে দলবেঁধে চষে বেড়াচ্ছে হাঁসের দল। ঘেরের পাশে লাগানো হয়েছে পেঁপে, বরইসহ নানা দেশীয় ফলের গাছ। সারি সারি পেঁপেগাছে কাঁচা ও পাকা পেঁপে ঝুলছে। এর পাশেই চোখে পড়ে লাউ, কুমড়াসহ নানা সবজির খেত। অন্যদিকে রয়েছে গরু-ছাগলের খামার।

করোনাকালে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

রহিমা জানান, নিজের আয় ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে খামারে বিনিয়োগ করেন তিনি। খামারের আয়ও এতে বেড়েছিল। তবে আয়ে প্রথম ধাক্কা লাগে করোনাকালে।

বিবি রহিমা বলেন, ‘লকডাউনের সময় হাঁস-মুরগির খাবার কিনতে পারিনি। প্রায় দুই হাজার ডিম দেওয়া মুরগি কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। ক্রেতার অভাবে কত মণ দুধ নষ্ট হয়ে গেছে হিসাব নেই। দুধ সড়ক ও খালে ফেলে দিতে হয়েছিল। তখন খাবারের অভাবে গরুগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শেষ পর্যন্ত অনেক গরু নামমাত্র দামে বিক্রি করতে বাধ্য হই।’ তাঁর দাবি, করোনার মহামারিতে খামারে অর্ধকোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়। এরপর আবার ঋণ নিয়ে খামার গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি।

সমন্বিত কৃষি খামারটিতে রয়েছে সবজির খেত। সম্প্রতি তোলা

বন্যায় আবারও ক্ষতির মুখে

করোনার ক্ষতি সামলে খামারটি যখন আবার গুছিয়ে আনছিলেন, তখন আসে ২০২৪ সালের বন্যা। বিবি রহিমার ভাষ্য, ভয়াবহ ওই বন্যায় তাঁর ছয়টি গরু ও প্রায় দুই হাজার ডিম দেওয়া হাঁস ভেসে যায়। মারা যায় প্রায় এক হাজার মুরগি। পুকুর থেকে ভেসে যায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ পাঙাশ মাছ।

রহিমা বলেন, মাছগুলো প্রতিটি ৩৫ টাকা দরে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বন্যায় সব ভেসে যাওয়ায় বিক্রি করা আর সম্ভব হয়নি। দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে খামারের সবকিছু ডুবে ছিল।

বিবি রহিমার দাবি, ওই বন্যায় তাঁর প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এত বড় ক্ষতির পরও কেবল কিছু কৃষিবীজ ছাড়া কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। রহিমা বলেন, ‘সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ পাব আশা করেছিলাম, তা–ও পাইনি। বর্তমানে আমার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে।’

খামার পরিচালনায় এখন নতুন করে সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন বিবি রহিমা। তিনি বলেন, স্থানীয় এক তরুণ একটি রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয়ে প্রায়ই তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না দিলে খামারের ও পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ওই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের জানানোর পর ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও হুমকি বন্ধ হয়নি বলে দাবি তাঁর।

Czytaj dalej u źródła

কাজের স্বীকৃতি নয়, মানুষ হিসেবে নিজের মূল্য খুঁজে পাওয়া জরুরি

· Prothom Alo

মানুষের জীবনে এমন কিছু লক্ষ্য থাকে, যেগুলো অর্জন করতে পারলেই সব অপূর্ণতা দূর হবে বলে মনে হয়। কাঙ্ক্ষিত চাকরি, পদোন্নতি, ভালো ফলাফল কিংবা নিজের লেখা বই প্রকাশের সুযোগ—এসব অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় আত্মবিশ্বাস, আত্মতৃপ্তি ও নিজের যোগ্যতা প্রমাণের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু কোনো একটি অর্জন কি সত্যিই মানুষের সব অতৃপ্তি দূর করতে পারে? নাকি স্বীকৃতি পাওয়ার পরও নতুন কোনো লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে থাকে মানুষ?

Visit sport-tr.bet for more information.

সম্প্রতি একটি বই প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এক লেখকের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্ন সামনে এনেছে। তাঁর সাহিত্যিক এজেন্ট বইটির প্রস্তাব বিভিন্ন প্রকাশকের কাছে পাঠিয়েছেন। প্রকাশকেরা বইটি গ্রহণ করবেন কি না, সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়। কিন্তু এই অপেক্ষা কেবল বই প্রকাশের অনিশ্চয়তায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিজের পরিশ্রমের সার্থকতা এবং মানুষ হিসেবে নিজের মূল্য নিয়ে সংশয়।

লেখক মনে করছেন, বইটি প্রকাশের চুক্তি হলে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমবে। বইটি লেখার পেছনে ব্যয় করা সময়কে সার্থক মনে হবে। অন্য কোনো কাজে সময় ব্যয় করা উচিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও হয়তো আর তাড়া করবে না। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের অর্জন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে।

এমন অনুভূতি অনেকের জীবনেই দেখা যায়। কেউ মনে করেন, কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পেলে জীবন গুছিয়ে যাবে। কেউ ভাবেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করতে পারলেই নিরাপত্তা ও তৃপ্তি আসবে। আবার কেউ সামাজিক স্বীকৃতি বা অন্যের প্রশংসার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ খোঁজেন। কিন্তু এসব লক্ষ্য অর্জনের পরও প্রত্যাশা শেষ হয় না; বরং নতুন কোনো লক্ষ্য সামনে এসে দাঁড়ায়।

আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছোটা কেন শেষ হয় না
‘ফিফটি ওয়ার্ডস ফর স্নো’ নামের একটি পডকাস্টে ফরাসি মনোবিশ্লেষক জাক লাকাঁর একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ধারণাটির নাম ‘অবজে পতি আ’। সহজভাবে বললে, এই ধারণা এমন একটি আকাঙ্ক্ষার উৎসকে বোঝায়, যা মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর বা অর্জনের পেছনে ছুটতে প্ররোচিত করে। মানুষ মনে করে, কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি হাতে পেলেই সুখ, পরিপূর্ণতা ও মানসিক শান্তি আসবে। অথচ সেই জিনিসের পক্ষে বাস্তবে মানুষের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়।

লেখকের কাছে বই প্রকাশের চুক্তিটি এমন একটি আকাঙ্ক্ষার বস্তু হয়ে উঠেছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বইটি প্রকাশের সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু তার কাছে প্রত্যাশা আরও বড়—জীবনের অপূর্ণতা থেকে মুক্তি, নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের অবসান এবং দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার চূড়ান্ত স্বীকৃতি।

এখানেই মূল সমস্যাটি। একটি নির্দিষ্ট অর্জনের সঙ্গে জীবনের সামগ্রিক সুখ ও আত্মমর্যাদাকে জুড়ে দিলে সেই অর্জনের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে হতাশা বাড়ে, আর ফল পাওয়া গেলেও সন্তুষ্টি দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে।

অন্যের অগ্রগতি কি নিজের পিছিয়ে পড়ার প্রমাণ
পডকাস্টটির আরেকটি পর্বে জ্যোতিষী কেট রুট ‘রেট্রোগ্রেড’ শব্দটি নিয়ে আলোচনা করেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে ব্যবহৃত এই শব্দের সঙ্গে গ্রহের আপাত বিপরীতমুখী গতির ধারণা যুক্ত। পৃথিবী ও অন্য গ্রহের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে কোনো গ্রহকে পৃথিবী থেকে দেখলে পেছনের দিকে চলতে দেখা যেতে পারে। বাস্তবে গ্রহটি তার কক্ষপথেই চলতে থাকে; গতির এই বিপরীতমুখী চেহারা তৈরি হয় পর্যবেক্ষকের অবস্থানের কারণে।

কেট রুটের আলোচনায় বিষয়টি ফিরে দেখা ও আত্মপর্যালোচনার সুযোগ হিসেবেও উঠে আসে। জীবনে কী কী ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো থেকে কী শেখা হয়েছে এবং কোন অভিজ্ঞতাগুলো বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্ন নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।

অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করার প্রবণতা এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। বয়সে ছোট কেউ যখন এমন কিছু অর্জন করেন, যা অন্য একজন বহুদিন ধরে অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন, তখন নিজের অগ্রগতি নিয়েও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। অন্যের এগিয়ে যাওয়াকে নিজের পিছিয়ে পড়ার প্রমাণ বলে মনে হয়।

কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবনের পরিস্থিতি, সুযোগ, অভিজ্ঞতা ও অগ্রগতির ধরন আলাদা। ফলে অন্যের অর্জন দিয়ে নিজের জীবনের সার্থকতা বিচার করা যথাযথ নয়।

এআই কি কাজ সহজ করছে, নাকি কাজের চাপ বাড়াচ্ছে

ভবিষ্যতের স্বীকৃতির অপেক্ষায় বর্তমানকে অবহেলা নয়
পডকাস্টে কেট রুট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন: মানুষের পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য কি কেবল অর্জন করা?

কেট রুট ভবিষ্যতে বই লিখে অচেনা কোনো পাঠকের উপকার করার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেন। তবে সেই উপকার করার সুযোগ কেন ভবিষ্যতের কোনো অর্জনের ওপর নির্ভর করবে, সেই প্রশ্নও সামনে আনেন। বর্তমানেই তো কাছের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, তাঁদের কথা শোনার এবং তাঁদের জীবনে অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

কেট জানান, মায়ের মৃত্যুর সময় তিনি বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তেও কখনো কখনো তাঁর মন চলে যেত সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতে কীভাবে লেখা যায়, সেই চিন্তায়। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, ভবিষ্যতে লেখা পড়তে পারেন, এমন একজন অচেনা মানুষের কথা ভেবে কেন পাশের মানুষটির সঙ্গে কাটানো বর্তমান মুহূর্তকে কম গুরুত্ব দেওয়া হবে?

ইন্টার্নশিপে বেতন নেই, তবু কেন করবেন

তাঁর উপলব্ধি হলো, ভবিষ্যতের পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার আকাঙ্ক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানের মানুষদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যুক্ত থাকাও সমান জরুরি; বরং বর্তমানের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের প্রতি মনোযোগী হলে ভবিষ্যতে লেখার মধ্য দিয়ে অন্যদের দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

এটি শুধু লেখকদের জন্য নয়, সবার জন্যই প্রাসঙ্গিক। পড়াশোনা, চাকরি, ক্যারিয়ার কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনের চেষ্টায় অনেকেই বর্তমানের সম্পর্ক ও আনন্দকে পিছিয়ে দেন। মনে করেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ হলেই নিজের জন্য সময় বের করা যাবে। কিন্তু একটি লক্ষ্য পূরণের পরই যখন আরেকটি লক্ষ্য সামনে আসে, তখন বর্তমানকে উপভোগ করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জরুরি, তবে সেই পরিকল্পনার জন্য বর্তমানের জীবনকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

লেখা: ম্যাগি রো/সাইকোলজি টুডে

Czytaj dalej u źródła