কেন এবার প্যারিসে হচ্ছে না ব্যালন ডি’অর, কোথায় হবে এবং কবে
· Prothom Alo

আজ মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হবে। তারপর সামনে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। ফুটবল–দুনিয়া আবার অপেক্ষায় সেই পুরোনো প্রশ্ন নিয়ে, কে হবেন সেরাদের সেরা। কে জিতবেন ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর?
Visit mchezo.life for more information.
পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই ঘোষণা করা হবে ৩০ জন করে মনোনয়ন পাওয়া ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকা। এরপরই শুরু হবে ভোটাভুটি। সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। শুধু বছরের সেরা ফুটবলারই নয়, একই সঙ্গে দেওয়া হবে সেরা দল, সেরা কোচের পুরস্কারও।
কখন ও কোথায় বসছে এবারের আসর
আগামী ২৬ অক্টোবর (সোমবার) লন্ডনে বসবে ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। তার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে শুরু হবে লালগালিচার ঝলমলে পর্ব। নির্দিষ্ট ভেন্যুর ঘোষণা এখনো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, ১৯১০ সালে উদ্বোধন হওয়া বিখ্যাত থিয়েটার লন্ডন প্যালাডিয়ামেই হতে পারে অনুষ্ঠানটি। ইংল্যান্ডের রাজধানীতে এই প্রথম বসছে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ।
RODRI, YOU WON IT! You're our 2024 Ballon d'Or! #ballondor @ChampionsLeague pic.twitter.com/z4Xwgp8s9T
— Ballon d'Or (@ballondor) October 28, 2024
কেন প্যারিস ছাড়ছে ব্যালন ডি’অর
ব্যালন ডি’অরের জন্ম ফ্রান্সের ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর হাত ধরে। তাই প্যারিসই ছিল এর চিরচেনা ঠিকানা। ২০১৯ সালের পর থেকে নিয়মিতভাবে প্যারিসের থিয়েটার দু শাতলেতে আয়োজিত হয়েছে অনুষ্ঠানটি। এর আগে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে থিয়েটার দু শাতলে, বিভিন্ন জায়গায় বসেছে এই আয়োজন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যখন পুরস্কারটির নাম ছিল ফিফা ব্যালন ডি’অর, তখন অনুষ্ঠান হতো সুইজারল্যান্ডের জুরিখে।
কিন্তু এই বছর জায়গা বদলের বিশেষ কারণ আছে। এ বছর ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি। সেই উপলক্ষেই লন্ডনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত। ১৯৫৬ সালে ইতিহাসের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। সেবার ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের ব্ল্যাকপুলে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এই সম্মাননা। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তিতে ফুটবলের জন্মভূমিতে ফিরছে এই খেলায় ব্যক্তিগত পুরস্কারের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা।
এই ব্রাজিলের কি আসলেই বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা আছে, কী বলেছেন সাবেক ব্রাজিল মিডফিল্ডারকে এই স্ট্যানলি ম্যাথিউস
১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্যানলি ম্যাথিউস। ব্ল্যাকপুলে ছোট পরিসরের এক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল সেই পুরস্কার। আজকের চাকচিক্যের সঙ্গে যার কোনো তুলনাই চলে না।
স্ট্যানলি ম্যাথিউসম্যাথিউস খেলেছেন এমন একসময়ে, যখন বল ছিল বেশ ভারী, খেলার গতি ছিল ধীর। তবু তাঁর পায়ের কারুকাজ ছিল সময়ের চেয়ে এগিয়ে। ভক্তরা তাঁকে ডাকতেন ‘উইজার্ড অব ড্রিবল’ নামে। ক্যারিয়ারের বড় অংশ কাটিয়েছেন স্টোক সিটি ও ব্ল্যাকপুলে। খেলেছেন কানাডার টরন্টো সিটির হয়েও। খেলেছেন ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে সবচেয়ে বেশি বয়সে খেলার রেকর্ড এখনো তাঁর। জাতীয় দলের হয়েও শেষ ম্যাচ খেলেছেন ৪২ বছর বয়সে।
প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতার সময় তাঁর বয়স ছিল ৪১। তখন বিতর্কও হয়েছিল। অনেকেই বলেছিলেন, ওই বছরের পারফরম্যান্স নয়, বরং তাঁর পুরো ক্যারিয়ারকে সম্মান জানানো হয়েছে। তবু ইতিহাস তাঁকে মনে রেখেছে পথপ্রদর্শক হিসেবে। ফুটবলসম্রাট পেলে নাকি একবার বলেছিলেন, ‘স্ট্যানলি ম্যাথিউস হলেন সেই মানুষ, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে ফুটবল খেলা উচিত।’
আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনো দিন খেলেননি, কিন্তু বিশ্বকাপ জিতেছেন এই গোলরক্ষক