পুতিন ইরানকে হয়তো ‘কিছুটা’ সহায়তা করছেন: ডোনাল্ড ট্রাম্প
· Prothom Alo

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানকে ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়া ‘কিছুটা’ সহায়তা করছে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এও বলেন, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনকে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অবস্থানের তথ্য ইরানের সঙ্গে বিনিময় করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সহায়তা করছে।
এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছিলেন, রাশিয়ার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছিল, তারা তেহরানের ইরানি সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে না।
ইরানের সঙ্গে রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে কি না—ফক্স নিউজ থেকে ট্রাম্পকে এ প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয়, তিনি (পুতিন) সম্ভবত তাদের কিছুটা সহায়তা করছেন। সম্ভবত তিনি ভাবছেন, আমরা ইউক্রেনকে সহায়তা করছি। তারা এটা করে এবং আমরা এটা করি।’
রাশিয়া কি ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করছে, কী বলছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফযুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের এবং একজন সাবেক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে বলেছিল, যেসব তথ্য বিনিময় করা হয়েছে তার মধ্যে মার্কিন সামরিক জাহাজ ও উড়োজাহাজগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানও রয়েছে। ইরান সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট সক্ষমতা সীমিত। অর্থাৎ রাশিয়ার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যেকোনো তথ্য ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় শূন্যস্থান পূরণ করতে পরে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সম্ভাব্য প্রভাবকে খুব একটা পাত্তা দেননি।
৭ মার্চ ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যদি তারা করেও, তারা খুব বেশি ভালো কাজ করছে না। ইরান খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই।’
ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে; সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। ট্রাম্প বাড়তে থাকা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি রাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপরই তিনি ফক্স নিউজকে এসব মন্তব্য করেন।
ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থারাশিয়ার তেলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে শুরুতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, এই সুনির্দিষ্টভাবে ‘সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা’ মস্কোর জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা’ বয়ে আনবে না।
এখন অবশ্য বেসেন্ট আগের বক্তব্য থেকে খানিকটা পিছু হটে স্কাই নিউজকে বলেছেন, এটি ‘অপরিহার্য’ এবং ‘দুর্ভাগ্যজনক’।
ক্রেমলিন ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অপরিহার্য বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছে। রাশিয়ার তেল ছাড়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়।’
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প-পুতিনের মধ্যে কী আলোচনা হলো